Bangla Golpo : একটি অলৌকিক ছবি রচনা শুভম সাহা || Bengali Story : Ekti Olukik Chobi By Subham Saha || DjM Originals

🚩

🚭 মদ্যপান-ধূমপান ও মাদক সেবন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর 🚫

DjM ORIGINALS -এর মাধমে কুসংস্কার-কে প্রশ্রয় দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়, DjM ORIGINALS কোনোরকম ভাবেই  কুসংস্কারকে সমর্থন করে না।

DjM ORIGINALS-এ আমরা বিভিন্ন ধরনের অরিজিনালস গল্প প্রকাশ করে থাকি, ভুত, গোয়েন্দা, অলৌকিক ইত্যাদি। ভুতের গল্পে অনেক সময়েই আমরা দেখেছি সেখানে ব্ল্যাক ম্যাজিক, দেবদেবী, ঝাড়-ফুঁ, তন্ত্রমন্ত্র ইত্যাদির উল্লেখ থাকে। গল্পের লেখক রোমাঞ্চকর আবহাওয়া বা প্লট তৈরির খাতিরেই এগুলো ব্যাবহার করে থাকেন।  কোনরকম কুসংস্কার বা অযৌক্তিক ভীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্যে নয়। আমরা আশা করবো DjM ORIGINALS এর দর্শকরাও সংস্কার মুক্ত হয়ে, খোলা মনে গল্প পাঠের আনন্দেই এই গল্প গুলি গ্রহন করবেন।

🚩

গল্প বর্ণনার খাতিরে আমরা কিছু শব্দ পরিবর্তন করলেও মুল গল্পটিকে সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রেখেছি, সম্পাদনার জন্য এবং গল্পটির মান বৃদ্ধির খাতিরে গল্পটিতে কিছু বাক্য এবং শব্দ আমরা সংযুক্ত করেছি।

🏮🏮🏮🏮🏮   🏮🏮🏮🏮🏮  🏮🏮🏮🏮🏮  🏮🏮🏮🏮🏮

একটি অলৌকিক ছবি

 শুভম সাহা

Bangla Golpo : একটি অলৌকিক ছবি রচনা শুভম সাহা || Bengali Story : Ekti Olukik Chobi By Subham Saha || DjM Originals
Bangla Golpo : একটি অলৌকিক ছবি রচনা শুভম সাহা || Bengali Story : Ekti Olukik Chobi By Subham Saha || DjM Originals

জ আমি যেই গল্পটা লিথতে চলেছি সেটা আপনাদের আজগুবি মনে হলেও আমার নিজের চোখে দেখা সত্যি একটি ঘটনা। এটা যদি আমাকে অন্য কেউ বলত তাহলে হয়তো আমি এটা হেসে উড়িয়ে দিতাম, কিন্তু নিজের চোখকে অবিশ্বাস করি কি করে । গল্পটা আগে পড়ে দেখুন তারপর বিশ্বাস করা ও নয়া করাটা আপনাদের উপর ছাড়লাম।

আমি তখন একটি মিউজিয়ামে প্রধান অধ্যক্ষের কাজে ছিলাম। আমার কাজ ছিল নানা ব্যাপারীদের থেকে মিউজিয়ামের সংগ্রহের জন্য জিনিস কেনা। তখন সবার মধ্যে সুজয় দাস ছিল সব থেকে বড় ব্যাপারী । বলা বাহুল্য যে তারও একটি নিজের মিউজিয়াম আছে । কিন্তু এক মিউজিয়ামে সব জিনিস রাখা যায় না বলে সে আমাদেরও নিজের সংগ্রহের কিছু জিনিস বিক্রি করে । অনেক দিন মিউজিয়ামে কাজ করার ফলে এবং সুজয়ের থেকে প্রায় জিনিস কেনার ফলে আমরা অল্প দিনেই খুব ভাল বন্ধু হয়ে যাই। কাজ ছাড়াও আমরা বাইরে দেখা হলে আমরা কখনাে খেতে ও বাইরে ঘুরতে যেতাম ।

একদিন দুপরে আমি তখন বিভিন্ন ব্যাপারীদের পাঠানাে তালিকাগুলাে দেখছিলম হঠাৎ এক কর্মচারী এসে খবর দিল যে সুজয় এসেছে দেখা করতে , আমি তখনি সুজয়কে পাঠিয়ে দিতে বললাম । কিছুক্ষণ পর সুজয়, হন্তদন্ত হয়ে ঢুকল , তার হাতে একটি কাগজে মােড়া ফটো ফ্রেম । তাকে এত বিচলিত দেখে জিন্সেস । করলাম , “ কি ব্যাপার সুজয় তােমায় এত অস্থির দেখাচ্ছে যে ?

সে আমার দিকে ভয়ে ভয়ে চেয়ে বলল ,“এই ছবিটা অলৌকিক, এই ছবি যেদিন থেকে আমার কাছে সেদিন থেকে আমার রাতের ঘুম উড়ে গেছে । এটা হয় আপনারা নিয়ে নিন না হলে পুড়িয়ে ফেলুন এ ছাড়া আমার কাছে কোন উপায় নেই । এই ছবি আমার কাছে আর একদিন যদি থাকে তাহলে হয় আমি মারা যাব নাহলে আমি পাগল হয়ে যাব , এই বলে সে কেঁদে ফেলল।

আমি বললাম , “শান্ত হও, কি ব্যাপার আগে সবটা খুলে বল তারপর আমরা এখানে রাখব নাকি পুড়িয়ে ফেলব ভেবে দেখব”। সে যা বলল সেটা শুনে বিশ্বাস না করলেও গায়ে কাটা দিয়ে উঠল। আপনাদের সুবিধার জন্য সে যে ভাবে বলেছিল আমি ঠিক সেভাবেই তার দিক থেকেই বলছি।

আমি এই ছবি সংগ্রহ করি এক ইংরেজ সাহেবের থেকে কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে। সাহেব আমায় বলেছিল যে এই ছবিতে যদি আমার কোনাে অসুবিধা হয় তাহলে এটা কাউকে দিয়ে দিতে কিন্তু সে যদি একান্ত না নেয়, তাহলে এটা পুড়িয়ে ফেলতে, আমি তখন ব্যাপারটাকে বেশি গুরুত্ব দিইনি । প্রথম পাঁচদিন কোনাে গােলমাল নেই। গােলমাল শুরু হয় ষষ্ঠ দিন থেকে রাতে যখন কোনাে কারনে ঘুম ভেঙে যায় তখন দেখি এই ছবিটার মেয়েটা আমার দিকে ক্রোধ ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, আমি ভয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম সকালে উঠে দেখি সেই ছবিতে কোনাে পরিবর্তনই নেই। এরকম রােজ রাতে মনে হত কিন্তু চোখের ভুল ভেবে উড়িয়ে দিতাম কিন্তু দিন দশেক আগে শুরু হল আসল গােলমাল, রােজ রাতে তাও আন্দাজ দুটো নাগাদ যখন আমার ঘুম ভেঙে যেত তখন আমি দেখতাম যে একটা মেয়ে আমার বিছানার সামনে দাড়িয়ে আছে এই ছবির মেয়েটা তার চোখ রাগে জ্বলছে আমি তাড়াতাড়ি উঠে নিজেকে কোনাে ভাবে সামলে নিয়ে আমি জিঙ্গেস করলাম, “কে তুমি, কি চাও আমার থেকে?” সে রাগের গলায় বলল, “কোন সাহসে তুই আমার এই ছবি নিজের ঘরে রেখেছিস?” আমি তখন বললাম, “কেন আমি এই ছবি এক সাহেবের থেকে কিনেছি, তা কিনে এই ঘরে ছাড়া আর কি ঘরে রাখবো?”। মেয়েটি ভেবেছিল যে আমি ভয় পেয়ে যাব তাই আবাক দৃষ্টিতে চেয়ে বলল, “তাের আমায় ভয় করছে না, তুই জানিস আমি চাইলে তাের কি অবস্থা করতে পারি। শেষবারের মত ভাল করে বলছি এই ছবিটা যার থেকে নিয়েছিস তাকে দিয়ে আয় নাহলে তাের সর্বনাশ হয়ে যাবে”।

  বিনামুল্যে HD ফটোগ্রাফি ডাউনলোড করুন, ভিজিট করুনঃ

djmthephotofactory
 



এই বলে সে সেদিনের মত চলে গেল এবং তার যাওয়ার পর আমি অঘােড়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । আমি সেদিন সকালে উঠে পুরাে ব্যাপারটাকে স্বপ্ন ভেবে উড়িয়ে দিলাম, কিন্ত সেটা ছিল আমার সব থেকে বড় ভুল। সেদিন আমি যদি স্বপ্ন না ভেবে মেয়েটার কথা শুনতাম তাহলে ভাল করতাম। আমি তার কথা শুনিনি বলে পরের দিন আবার করা দিন আবার ঐ রাত দুটো নাগাল ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর দেখি সেই সেই মেয়েটা ক্রুদ্ধ মুখে আমার চোখের সামনে দাড়িয়ে।


সে তখন চিৎকার করে বলল, “তাের এত বড় সাহস তুই আমার ঘা অগ্রাহ্য করলি তাহলে দেখ আমি কি করতে পারি ‘ , বলে সে উধাও হয়ে গেল । ঠিক কিছুক্ষণ পর আমার মােবাইলটা বেজে উঠল দেখি আমার মিউজিয়ামের চৌকিদার ফোন করেছে আমি তুলতেই কিসব অস্পষ্ট আওয়াজ যেন এক মেয়েলি গলা আমি বললাম কি হল ভােম্বল কি বলছ আর এত রাতে ওখানে কে?

হটাত ভোম্বল চিৎকার করে বলল, বাবু সর্বনাশ হয়ে গেছে আগুন লেগেছে আপনি তাড়াতাড়ি এখানে আসুন আমি দমকলকে খবর দিয়েছি ওরা আসলাে বলে। আমি যত তাড়াতাড়ি হয় আমার মিউজিয়ামে গিয়ে পৌছালাম গিয়ে দেখি কোনো আগুন নেই সব ঠিক আছে। আমি ভােম্বলকে রেগে জিঙ্গেস করলাম এসবের মানে কি নেশা করে আছাে নাকি কোথায় আগুন । সে আমার মত অবাক হয়ে বলল, “ আগুন কোথায় আগুন আমিতাে কিছুই জানি না”।

আমি বললাম, তাহলে এত রাতে আমায় ফোন করে ডাকলে কেন আগুন আগুন চিৎকার করছিলে কেন ? ভােম্বল অবাক হয়ে বলল , “ ফোন ! বাবু আপনি জানেন না আমার ফোন কয়েকদিন আগে হারিয়ে গেছে এখন আমার কাছে কোন ফোন নেই যে বাবু তাহলে আমি আপনাকে কি করে ফোন করব”।

আমার তখন মনে পড়ল যে তাইতাে সে তাে কয়েকদিন আগে বলেছিল যে তার ফোন হারিয়ে গেছে তাহলে ভােম্বলের আওয়াজে কে কথা বলছিল আমার সাথে। আমার কেমন জানি ভয় ভয় করতে লাগল। ভায়ে সেদিন আমি বাড়ি ফিরলাম না আমার স্টাডিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে উঠে বুঝলাম কাল রাতে যেটা হয়েছে সেটার পর চুপ করে থাকা যায় না তাই আমি সেই সাহেবের সাথে যােগাযােগ করে জানতে পারি এই ছবিটার ব্যাপারে।

ছবির সেই মেয়েটা হল লারা ডি কোসটা ইংলেন্ডের এক রাজ পরিবারের মেয়ে । শােনা যায় যে এই মেয়েটি ছিল হিংস্র প্রকৃতির কিন্তু কারাের ক্ষতি করতাে না। তার কথা যদি কেউ না মানতাে তাহলে সে নিজেকে আঘাত করত যাতে তার কষ্ট দেখে কেউ তাকে অবহেলা না করে। তার ব্যাপারে বেশি কিছু জানা যায়নি, কিন্তু এটা জানা যায় যে তার মৃত্যু হয় আগুনে পুড়ে , সবাই ভেবেছিল যে তার মৃত্যু হয় দুর্ঘটনায় কিন্তু পারে জানা যায় যে সেটা আত্মহত্যা ছিল।

আমি তখন সাহেব কে জিঙ্গেস করি যে এখন আমার কি করা উচিৎ? উনি বললেন যে চিন্তার কোন কারন নেই। সেই মেয়ে আমার কোন ক্ষতি করবে না। আমি সাহেবের কথা শুনে সাহস পাই, তাই ওই ছবিটার কথাও আস্তে আস্তে ভুলে যাই।

ঘটনাটা ঘটে আজ থেকে দুই দিন আগে, আমি আবার সেই দুটো নাগাদ ঘুম থেকে উঠে দেখি সেই মেয়েটা আমার মুখের উপর ঝুকে আমার দিকে তাকিয়ে তার মুখটা বিশ্রি ভাবে চেরা যেন মুখের উপর দিয়ে কেউ ব্লেড চালিয়ে দিয়েছে। আমি সেই মুখ দেখে আঁতকে উঠি সে যে কি বিভৎস তা আমি বলে বােঝাতে পারবাে না। সে সেই ভাবে বলে, “তুই এখনাে আমার ছবি এখান থেকে সরাস নি”, এই বলে সে আমার গলা চেপে ধরল এবং একইসঙ্গে আবার শাসাতে লাগল, , ‘সরিয়ে ফেল এই ছবি ‘, প্রায় এরকম এক মিনিট চলার পর সে তার হাত আমার গলা উপর থেকে সরিয়ে নিল। আর কয়েক সেকেন্ড যদি সে আমার গলা এভাবে ধরে রাখতাে তাহলে হয়তাে আমি মারাই যেতাম । আমি কোন ভাবে সামলে নিয়ে বললাম, তুমি কেন তােমার ছবি এই ঘর থেকে সরাতে চাও আমাকে দয়া করে, বলো আমি ঠিক সড়িয়ে দেব কথা দিলাম’। মনে হল একটু সে নরম হল তারপর দেখি ওর মুখের কাটা দাগটা মিলিয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছিল যেন আমাকে ভয় দেখানর জন্যই কাঁটা দাগটা সে একেছিল আর এই দাগ মুছে যাওয়া দেখে আমার সেই সাহেবের কথা মনে পরে গেল, যে লারা নিজেকে কষ্ট দিয়ে নিজের সব আবদার জোর করে পুরন করাতো, যতই হোক রাজবংশের মেয়ে তাদের কোথাও আঘাত লাগলে বাড়িতে তোলপাড় পরে যেত আর সেই সুযোগেরই সৎ ব্যাবহার করতো লারা।

তখন সে বলতে শুরু করলো, “আমি মরেছি কিন্তু এই ছবির মায়া আমি ত্যাগ করতে পারিনি, আমি যাদের উপর অভিমান করে আত্মহত্যা করেছি তারাও বাকি জীবনটা সুখে কাটতে পারেনি। আমি চাই না পৃথিবীর কোনো দেওয়ালে এই ছবি ঝুলুক, তাই আমি চাই না তুইও এই ছবি দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখিস। এই আমি তোকে শেষ বারের মত বললাম এরপর আর বলব না। 

সব সময় টেকনোলজির সঙ্গে নিজেকে আপডেট রাখুন ভিজিট করুনঃ

techforftcp


 

 

বিনামুল্যে সমস্ত শ্রেণির ই-নোটস সংগ্রহ করুন,  ভিজিট করুনঃ

prachesta education

  

এই বলে সে চলে গেল। আমি তারপর এত ভয় পেয়ে গেছি যে আর এই ছবির দিকে তাকানাের সাহস হয় না । শুধু মনে হয় সে যেন আমায় মেরে ফেলবে।

এই বলে সুজয় শিউড়ে উঠল, বুঝলাম সে খুব ভয় পেয়েছে, আমি তার ভয় কাটানাের জনা বললাম, “এই ছবিটা মিউজিয়ামেই যাক তুমি নয় আমার বাড়িতে চল কাল এ ব্যাপারে ভাবা যাবে। এই বলে আমি তাকে আমার বাড়ি নিয়ে গেলাম। পরদিন আমরা যখন মিউজিয়ামে আমার কাজের ঘরে ঢুকলাম তখন গিয়ে দেখি সব কাগজ এলাে মেলাে যেন কেউ কিছু খোঁজার চেষ্টা করেছে। আমি সুজয়ের দিকে তাকিয়ে দেখি তার মুখ সাদা যেন সে জানত এমনি কিছু একটা হতে চলেছে। আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে বললাম, “কি সুজয় কিছু হয়েছে তুমি ঠিক আছােতাে”? সে কোন রকমে সামলে নিয়ে বলল, “আমি জানতাম এরম কিছু একটা হবে, আজই কিছু একটা করা দরকার এই ছবিটার, কিন্তু কি করবো”? 
আমি তখনি ঠিক করে ফেলেছি যে আমি আজ রাতটা এই ঘরে কাটাবাে এবং দেখব কি হয় তাই আমি আজ কাজ শেষ করে সুজয়কে নিয়ে রাতে থাকার প্ল্যান করি। প্রথমে সুজয় আমায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু আমি শুনিনি তাই সে থাকতে চাইল আমি বাধা দিলাম না কারন আমি জানি তার থাকাটা খুব দরকার। আমি সারারাত জেগে থাকব ঠিক করেছিলাম, সুজয় আবশ্য ঘুমাবে বেচারার কত রাত ঘুম হয়নি তাই তাকে আর জেগে থাকার প্রস্তাব দিলাম না । আমি প্রায় সারা রাত ছবিটার দিকে তাকিয়ে। রাত তখন প্রায় একটা বেজে পয়তাল্লিশ মিনিট অর্থাৎ পনে দুটো যখন ছবিতে আমি প্রথম অস্বাভাবিক কিছু দেখি। দেখি যে প্রথমে ছবি উজ্জ্বল হল যেন মেয়েটির মুখ বেড়িয়ে আসার চেষ্টা করছে। তারপর এক আদ্ভুত দৃশ্য ছবিতেই মেয়েটার গলায় দড়ির দাগ ফুটে উঠছে, এমন দাগ যাদের ফাসি হয় তাদের গলায় দেখা যায়, তার ঠিক পরমুহুর্তেই এক হার হিম করা দৃশ্য, মেয়েটি ছবি ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছে এবং ছবির জায়গাটি ফাকা। আমি টো হতবাগ তখন, “একী…………এ কি হচ্ছে………”। এই ঘটনাটা যতটা অবিশ্বাস ততটাই ভয়ঙ্কর। সে বেড়িয়ে এসে এদিক ওদিক তাকাল তারপর আবার ছবিতে ঢুকে পড়ল। আর ঠিক তার পর মূহুর্তে এক মিষ্টি গন্ধ আমার নাকে আসে এবং আমি গভির ঘুমে তলিয়ে যাই।
……… সুম হা…………………………………………………………
…………………………………………………………………………………………………………
পরদিন সকাল বেলা আমার যুম ভাঙল, সুজয়ের ঠ্যালা খেয়ে। আমি চোখ খুলতে সে আমায় জিজ্ঞেস করল, “কি হল কিছু দেখলে রাত? ‘আমি বললাম, “হ্যা আনেক কিছু যা তুমি হয়তাে দেখনি।”
সে উতলা হয়ে জিঙ্গেস করল, “কি দেখলে”?
আমি আড়মোড়া ভেঙে বললাম, “বলছি আগে একটু চা খেলে হয় না তারপর সব বলছি। আমি বাইরে দায় চা খেতে খেতে তাকে রাতের ঘটনাটা সর বললাম। সুজয়কে দেখলাম আমার কথা শুতে গিয়ে মাঝে মাঝে শিউড়ে উঠছে। আমি মিউজিয়ামে ঢুকে ছবিটাকে ভাল করে দেখে প্রাফেসর সৌরভকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়ে দিলাম আর ছবিটার ব্যাপারে যা জানি সব লিখে দিলাম, তাকে অনুরোধ করলাম আর যদি সে কিছু জানে সে যাতে আমাকে বিকেলে জানায় তাহলে অনেক উপকার হয়। সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ আমরা প্রফেসরের কাছে গিয়ে হাজির হলাম।

প্রফেসর বললেন, এটা যে লারা ডি কোসটা ছবি এবং তুমি যা শুনেছাে সব ঠিক। এছাড়া আর সেরকম কিছু জানা যায় নি শুধু আত্মহত্যা করে গলায় দড়ি দিয়ে। 
আমি এসব শুনে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বেরিয়ে আসলাম এবং ঠিক করলাম যে আজ রাতে ছবিটাকে ছিড়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলবো। সুজয় এটা শুনে বলল, “ ইংরেজ সাহেব যে বলেছিল ছবিটা যদি এমনি এমনি পুড়িয়ে ফেলি তাহলে যদি কিছু হয় । আমি বললাম, “কি আর হবে এমনি কি কম বিপদে পড়ে আছি”। মিউসিয়ামে এসে আমি সেই ছবিটা নিয়ে গেলাম ছাদে।  চাকরকে বলা ছিল ছাদে আগুন ধরিয়ে রাখতে কাঠ জোগার করে। আমি ছাদে গিয়ে সেই ছবিটা ছিড়ে আগুনে ফেলেদি এবং সেই সঙ্গে কেউ যেন আর্তনাত করে উঠল, কাউ কে পুড়িয়ে যদি মারা হয় তেমন চিৎকার আর কিছুক্ষনের মধ্যে সব ছাই । আবাক ব্যাপার হল যে যখন নিচে এসে কর্মচারীদের কোন চিৎকারের কথা জিঙ্গেসা করতে তারা বলল যে তারা কিছু শােনেনি । তাহলে কি আমরা ছাড়া সেই ভয়ঙ্কর চিৎকার কেউ শুনতে পায়নি। 
পরদিন সকালে খবরের কাগজে এক ইংরেজ সাহেবের আগুনে জ্বলে মৃত্যুর খবর দেখে সজয় দেীড়ে আমার বাড়িতে আসে। সুজয় বলল, “দেখ এই সেই সাহেব যার থেকে আমি ছবিটা কিনে ছিলাম সে মারা গেছে। আমি পড়ে দেখলাম, লেখা আছে যে গতকাল রাত ৮ টায় ডি কোসটা সাহেবের আগুনে পুরে মৃত্যু হয়, তদন্তে সাহেবের গায়ে আনেক কাটা চেরার আঘাত পাওয়া যায় এবং আগুন লাগার কারন কিছু জানা যায়নি তাই পুলিশ সন্দেহ করছে যে এটা আত্মহত্যা।  কিন্তু বডি ফরেন্সিকে পাঠানো হবে এবং বডির পোস্টমর্টেম করেও পরীক্ষা করা হবে। এটা পড়ে আমি সুজয়ের দিকে তাকালাম। তার মানে কাল রাতে যখন ছবিটা পােড়াচ্ছিলাম তখনি এই ঘটনাটা ঘটে। 

আমার মাথা কেমন গোলমাল হয়ে গেল। কিছুই যেন বুঝতে পারছিলাম না কেমন বেখাপ্পা লাগছিল নিজেকে…।।

শেষ হলো একটি অলৌকিক ছবি রচনা শুভম সাহা,

 ঠিক আবার আসছে দিন DjM ORIGINALS এরকমই একটা গল্প নিয়ে উপস্থিত হবে আপনাদের সামনে, সঙ্গে থাকুন আর ভিজিট করুন আমদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

 

1 thought on “Bangla Golpo : একটি অলৌকিক ছবি রচনা শুভম সাহা || Bengali Story : Ekti Olukik Chobi By Subham Saha || DjM Originals”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *