Skip to main content

মোটিভেশনাল স্পিকার সন্দীপ মহেশ্বরী জীবন কাহিনী

মোটিভেশনাল স্পিকার সন্দীপ মহেশ্বরী জীবন কাহিনী
সন্দীপ মহেশ্বরী কে আমরা Motivational Speaker হিসেবে চিনি। কিন্তু তিনি একজন বিখ্যাত ফটোগ্রাফার দের মধ্যে একজন। সন্দীপ মহেশ্বরী এর নামে একটি রেকর্ডও আছে।


আমাদের জীবন অতিবাহিত করতে গেলে নিজেদেরকেই কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। যে প্রশ্নগুলি আমরা নিজেরাই নিজেকে করি। কিছু ক্ষেত্রে উত্তর পেয়ে যায় আবার কিছু ক্ষেত্রে উত্তর পাই না। আর যখন উত্তর পাই না তখন মনে হয় জীবনটা হঠাৎ করে থেমে গেল।

যতক্ষণ না সে উত্তর আমরা খুঁজে পাই, মনে হয় জীবনটা আর সামনের দিকে এগোচ্ছে না। তখনই আমাদের কিছু মানুষের সাহারা লাগে। কিন্তু, জীবন আমাদের এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যায়, যখন সাহারা দেওয়ার মতন মানুষ কাছে পাইনা আমরা। আর ঠিক তখনই আমাদের ভিতরে এক অমানবিক ডিপ্রেশান নামক আত্মা ঢুকে বসে। আমরা প্রায় সকলেই এই ডিপ্রেশন নামক অমানবিক আত্মা এর কাছে হার মেনে যাই, আর নিজেকে শেষ করার পর্যন্ত চিন্তাভাবনা করে ফেলি।

কিন্তু এই মানুষটি যার কথা আমি আপনাকে বলছি, তিনি হলেন বেস্ট ইন্ডিয়ান মোটিভেশনাল স্পিকার সন্দীপ মহেশ্বরী। তার জীবনেও এরকম অনেক ওঠানামা এসেছে। কিন্তু আমাদের মত যদি তিনিও সেই ডিপ্রেশনকে, সেই সময় টিকে ধরে নিয়ে বসে থাকতেন তাহলে হয়তো আমরা আজকে তাকে যে জায়গায় দেখছি তাকে হয়তো সেই জায়গায় পেতাম না।

মোটিভেশনাল স্পিকার সন্দীপ মহেশ্বরী জীবন কাহিনী

সন্দীপ মহেশ্বরী আমার তোমার মতই একটি সাধারণ মানুষ ছিলেন। তার পরিবার ও আমাদের মতন সাধারণ। কিন্তু আজকে তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন কারণ তিনি তার লক্ষ্য ঠিক রেখেছিলেন এবং হাজার বিপত্তি সত্ত্বেও তিনি হার মানেননি। সন্দীপ মহেশ্বরী এর জন্ম  1980, 28th September একটি মিডিল ক্লাস ফ্যামিলি তে। সন্দীপ মহেশ্বরী এর পিতা এর একটি অ্যালুমিনিয়াম বিজনেস ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর এলুমিনিয়ামের বিজনেস বন্ধ হয়ে যায় নানা কারণে। পরিবারের ভার এবার পড়ে আয় সন্দীপ মহেশ্বরি এর উপরে।

সন্দীপ মহেশ্বরী এর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় তার বাবা এর বিজনেস বন্ধ এর পর থেকে। কারণ পরিবারের দায়িত্ব তার উপরে এসে পড়ে। তিনি হাইয়ার সেকেন্ডারি পড়াশোনার পর কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু তিনি তার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেননি। প্রথম বছরেই তিনি ড্রপআউট হয়ে যান।

পরিবারের খরচাপাতি চালানোর জন্য তিনি নানান কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রথম কাজ করেন এমএলএম কোম্পানিতে। এছাড়াও শিক্ষার জন্য কাউন্সেলিং, পিসিও চালানো প্রভৃতি কাজ ওনাকে করতে হয়। কিন্তু কোনো কাজই তার মনের মত ছিল না। তিনি জানতেন যে এই কাজগুলো তার জন্য নয়।

সন্দীপ মহেশ্বরীর জীবনে পরিবর্তন।

প্রত্যেক মানুষের জীবনে একটি কঠিন সময় আসে। সন্দীপ মহেশ্বরী সেই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে নিজেকে অতিবাহিত করছিলেন। তিনি নিজের একটি ভিডিও ইন্টারভিউ তে বলেন, ওই সময় তার সেই সময়ের মধ্যে একটি ছিল, যখন তাকে অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে নিজেকে অতিবাহিত করতে হচ্ছিল। তিনি সেই সময়ে নানান সমস্যার দ্বারা ঘিরে ছিলেন।

সন্দীপ মহেশ্বরী এর জীবন পাল্টে যায় এমএলএম কোম্পানি এর একটি সেমিনার থেকে। যেখানে 21 বছরের একটি ছেলে সেমিনার স্টেজে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেয়, এবং সে বলে যে সে কিভাবে এম এল এম বিজনেস এর মাধ্যমে কি করে এতটা সফলতা পেয়েছে। সে 7 কোটি টাকা ইনকাম করেছে। সন্দীপ মহেশ্বরী ইন্টারভিউ তে বলেন তিনি এই সেমিনার থেকে কিছুই বুঝতে পারেননি। কিন্তু তিনি এই কথাটা ঠিক বুঝেছিলেন যে, লক্ষ্য স্থির থাকলে এবং ঠিক পথ ঠিক বুঝতে পারলে ঠিক সফলতা পাওয়া যাবে।

ফটোগ্রাফি তে সন্দীপ মহেশ্বরী এর কেরিয়ার

সন্দীপ মহেশ্বরী কে আমরা একজন মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে চিনি। আমাদের কাছে এটি তার পরিচয়। কিন্তু আসলে তিনি মোটিভেশনাল স্পিকারের পাশাপাশি একজন সফল ফটোগ্রাফার। সফল ফটোগ্রাফারদের মধ্যে সন্দীপ মহেশ্বরী এর নাম অবিস্মরণীয়। আমরা কিন্তু সন্দীপ মহেশ্বরী কে কেউই ফটোগ্রাফার হিসেবে চিনিনা। অথচ, মোটিভেশনাল স্পিকার এর আগে ফটোগ্রাফার তার প্রথম পরিচয়।

সন্দীপ মহেশ্বরী ইন্টারভিউতে বলেন, তিনি জীবনে নানান রকমের বিজনেস করেছেন কাজ করেছেন কিন্তু ফটোগ্রাফি এর মতো সফলতা তিনি কোথাও পাননি। তিনি আরো বলেন ফটোগ্রাফি লাইনে আসার আগে তার  এক বন্ধু তাকে কিছু ফটোগ্রাফি দেখায় এবং সেটি দেখে তিনি ফটোগ্রাফি লাইনে আসার কথা ভাবেন।

ফটোগ্রাফি লাইনে আসার কথা ভাবার পরেই তিনি একটি দামি ক্যামেরা কেনেন এবং ফটোগ্রাফী শেখা শুরু করেন। ফটোগ্রাফি শেখার দু সপ্তাহ পরেই তিনি কাজে নেমে পড়েন। কিন্তু, ফটোগ্রাফি এর ফিল্ডে নামার পরে তিনি বুঝতে পারেন এখানে কম্পিটিশন অনেক বেশি। তবুও, তার ফটোগ্রাফি এতটাই ভাল লেগে যায় যে তিনি এক লক্ষ্য স্থির করে নেন। কিছু করব তো এখানেই করব এবং তিনি ডিসাইড করেন যে, এই লাইনে তাকে ভালো কিছু করতে হলে তাকে সবার থেকে আলাদা কিছু করতে হবে।

কিছু আলাদা করার চিন্তা ভাবনা করে সন্দীপ মহেশ্বরী খবরের কাগজে ফ্রী পর্টফলিও এর প্রচার করেন। এটি দেখে অনেক লোক সন্দীপ এর সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে এবং তার ফটোগ্রাফি ফেমাস হতে থাকে। এরপর থেকেই তিনি তার ফটোগ্রাফি থেকেও কিছু আয় করা শুরু করেন। কিন্তু, সন্দীপ এখানেই থেমে থাকেনি। তিনি ভাবেন যে তার ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানানো উচিত এবং যেমন ভাবনা তেমনি কাজ। তিনি একটি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানান যেখানে 10 ঘন্টা 45 মিনিটে তিনি 122 টি মডেলের 10000 ছবি তোলেন।

সন্দীপ মহেশ্বরী কীভাবে উপার্জন করেন

সন্দীপ মহেশ্বরী কে আপনারা সকলে যেহেতু একজন মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে চেনেন। সেহেতু আপনাদের ধারণা হতেই পারে যে তিনি এইযে মোটিভেশনাল সেমিনার গুলো চালান সেখান থেকেই তিনি ইনকাম করেন। কিন্তু আপনারা হয়তো এটা জানেন না যে, তিনি যে সেমিনার গুলো এটেন্ড করেন সেখান থেকে তিনি কোন টাকা নেন না। এমনকি ইনকাম করার জন্য তিনি তার ইউটিউব চ্যানেল কেউ মনিটাইজ করেননি। তার চ্যানেলের ভিডিওগুলি দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন যে সেখানে কোন এডভারটাইস চলে না। এটি হয়তো আপনি জানতেন না। তাহলে তার ইনকাম আসে কোথা থেকে ?

ওই যে আপনাকে বললাম তিনি বিখ্যাত ফটোগ্রাফার দের মধ্যে একজন। আর ফটোগ্রাফি থেকেই তার ইনকাম আসে। ImagesBazaar নামে তার একটি ওয়েবসাইট আছে যেখানে তিনি ফটো বিক্রি করেন এবং ফটো কেনেন. এই ওয়েবসাইটে ভারতীয় মডেলদের অনেক ফটো আছে। যখন কোন প্রোডাক্ট এর জন্য কম্পানি ডিজাইন এবং বিজ্ঞাপন করতে যায় তখন সেখানে মডেলের ফটো এর ভীষণ পরিমাণে ডিমান্ড হয়। এভাবে ফটো গুলিকে ইন্ডিয়ান টাচ দেওয়ার জন্য ইন্ডিয়ান মডেলদের ফটো চাওয়া হয়। আর এই ডিমান্ড কে পুরো করেন সন্দীপ মহেশ্বরী এর ওয়েবসাইট।

এই ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো ফটোগ্রাফার তার ফটো বিক্রি করতে পারে।  বিক্রি করার কিছু কমিশন ওয়েবসাইট রেখে দেয়, আর বাকিটা আপনাকে দিয়ে দেয়। তো আপনি যদি একজন ফটোগ্রাফার হন তাহলে ওয়েবসাইটে গিয়ে লগইন করে আপনি আপনার তোলা ফটো এখানে বিক্রি করতে পারেন।

সন্দীপ মহেশ্বরী যে অ্যাওয়ার্ড গুলো পেয়েছেন


  1. তাকে Creative Entrepreneur of the Year 2013 অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়  “Entrepreneur India Summit” এর দ্বারা।
  2. “Business World” ম্যগাজিনে তাকে সর্বসেরা উদ্দক্তা দেড় মধ্যে একজন বলে গণ্য করেছেন।
  3. Star Youth Achiever Award দেওয়া হয়েছে  “Global Youth Marketing Forum” দ্বারা।
  4. Young Creative Entrepreneur Award পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে  British Council দ্বারা যা ব্রিটিশ হাই কমিশনের একটি বিভাগ।
  5. Pioneer of Tomorrow Award, “ET Now” টেলিভিশন চ্যানেল দ্বারা।
  6. এর সাথেসাথে The Economic Times, India Today, CNBC-TV18, IBN7, ET Now, NewsX এবং তার সাফল্যের চিত্র অনেক মিডিয়া সংস্থায় দ্বারা তুলে ধরা হয়েছে।
সন্দীপ মহেশ্বরী একজন সফল বিজনেসম্যান এবং অন্যদিকে একজন সফল মোটিভেশনাল স্পিকার। এই সফলতার প্রমাণ দেয় তার মিলিয়নস ফলোয়ার।  এই ফলোয়ারদের মধ্যে শুধুমাত্র ইউথ নয় অনেক বয়োজোষ্ঠ মানুষ তাকে ফলো করেন।

উপসংহার

সন্দীপ মহেশ্বরী এর সঙ্গে তোমার কিন্তু 9০ শতাংশ মিল আছে। কিন্তু, সন্দীপ মহেশ্বরী তোমার থেকে 10% আলাদা। 10% আলাদা তিনি এই কারণেই, কারণ তিনি খারাপ ভালো সবকিছুকেই মোটিভেশনাল হিসেবে নিয়েছেন জীবনে। কোন কিছুতেই তিনি হার মানেননি এবং ডিপ্রেশন এর কাছে তিনি হেরে যান। তুমি যদি এই 10% তার মত করতে পারো তাহলে হয়তো তুমি সন্দীপ মহেশ্বরী এর সমতুল্য হতে পারবে। জেনে নিন সন্দীপ মহেশ্বরী এর জীবনের কিছুটা অংশ।

Comments

Popular posts from this blog

Live Update : সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড় আম্ফান

আম্ফন, আম্ফান, অ্যাম্ফান কলকাতা আই এম ডি এর অনুসারে এই ঘুর্ণবত এর সৃষ্টি দীঘা থেকে ১৭৭ কিমি দূরে দক্ষিণ পূর্ব দিকে। আর এই কারনে এই ঝড় কলকাতা তে বেশি প্রভাব ফেলবে ফনি ঝড় এর থেকে। বিশেষজ্ঞ দের মতে এই ঝড় কলকাতা এর নিকট উত্তর এবং উত্তর পূর্ব এর দিকে বাড়ার সম্ভাবনা তীব্র।

আগেই আমরা ফনি এর সাথে মোকাবিলা করে এসেছি। যদিও সেই ফনি সব জায়গায় তাণ্ডব দেখায়নি। কিন্তু যেখানে দেখিয়াছে সেখানে সব নিঃস্ব জয়ে গেছে। ফনি এর পর এবার এসেছে ঘুর্ণবাত ঝড় অম্ফান। বিশেষজ্ঞ দের মতে এই ঝড় আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
কলকাতা আই এম ডি এর অনুসারে এই ঘুর্ণবত এর সৃষ্টি দীঘা থেকে ১৭৭ কিমি দূরে দক্ষিণ পূর্ব দিকে। আর এই কারনে এই ঝড় কলকাতা তে বেশি প্রভাব ফেলবে ফনি ঝড় এর থেকে। বিশেষজ্ঞ দের মতে এই ঝড় কলকাতা এর নিকট উত্তর এবং উত্তর পূর্ব এর দিকে বাড়ার সম্ভাবনা তীব্র। 
এনডিআরএফ এর প্রধান এম এন প্রধান বলেছেন যে উড়িষ্যা এর নিকট হাওয়া এর গতি তীব্র হয়েছে। পারাদ্বীপ এ 100 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় এই মুহূর্তে হাওয়া চলছে। এখনো পশ্চিমবঙ্গে এই হাওয়ার বেগ অতটা তীব্র হয়নি।
ওড়িশা এর বালাসোর এবং ভদ্রক অন্যদিকে পশ্চিমব…

DjM Originals Bangla Choto Golpo : হঠাৎ সারপ্রাইজ

DjM Originals : হঠাৎ সারপ্রাইজ
তন্ময় রায়
DjM Originals Bangla choto golpo: টিভিতে রামায়ণ দেখছিলাম, আর এখন এই গল্পটি লিখতে লিখতে রামায়ণের বাল্মিকী একটা কথা মনে পড়ে গেল। লব এবং কুশ যখন বাল্মীকি কে জিজ্ঞাসা করেন যে, কার গতি সব থেকে বেশি? উত্তরে বাল্মিকী শব্দের গতি এবং আলোর গতি এর কথা বলেন। এরপরেও যখন লব জিজ্ঞাসা করে এরপরেও কি কারো গতি আছে যেটা আরো বেশি? তখন বাল্মিকী তাদের বলেন, "হ্যাঁ আছে, মনের গতি"।

এই গল্পটি লিখতে লিখতে বাল্মিকী এর সেই কথাটাই মনে পড়ে গেল। সত্যিই শব্দের গতি, আলোর গতি এইসব থেকেই আরো গতিতে আমাদের পুরো ব্রহ্মাণ্ডে বিচরণ করে আমাদের মনের গতি। গল্পটা কি এবারে বলি

করণ পুরি নামক একজন বৃদ্ধা হরিয়ানা এর সেক্টর 7 থাকেন এবং তিনি একাই সেই বাড়িতে থাকেন। তার একটা ছেলে আছে, সে আমেরিকায় থাকে। 28 এপ্রিল পুরি বাবুর জন্মদিন। তাকে শুভেচ্ছা জানানোর কেউ নেই। তাছাড়াও বাইরে যা অবস্থা, তাতে তিনি বাইরে গিয়ে যে একটু নিজের মতন করে খোলা আকাশের মত একটু বাঁচার চেষ্টা করবেন, সেটাও তিনি তার এই জন্মদিনের দিন করতে পারছেন না। নাকি কেউ তার বাড়িত আসছে। কারণ বাইরে যা অবস্থা তা তো সবারই জানা…