DjM Originals

কবিতা: লাল রং রচনা মলয় বসু

আমায় দেখবি বলে –
আজো কি বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলিস ?
আজো কি ফ্লাইং কিসটা ছুঁড়েছিলিস হাওয়ায় ?
মোড়ের মাথা থেকে দেখলাম তোদের বাড়িটা –
কি সুন্দর লাগছে রে,হাল্কা নরম আলোয় আলোকিত ।
ছাদ থেকে নেমেছে অজস্র রং বেরংয়ের টুনি ।
তাই আজ ঐ রাস্তাটা ধরিনি সোমা,
ঘুর পথে ফিরেছি বাড়ি ।

শাওয়ার আর চোখের জল মিলে মিশে গেছে
দুটি নদীর দুটি স্রোত আজ দুই মোহনায় ।
ধূমায়িত এক কাপ চা মা রেখে গেছে ঘরে
ভিজে ওঠে চোখটা বারবার মুছি গামছায় ।

গতকাল হাঁটছিলাম লেকের রাস্তাটি ধরে
সেই রাস্তাটি যে রাস্তাটা ধরে তুই আমি,
কতদিন, কতবার হেঁটে গেছি মেনকার দিকে ।
অবাক বিস্ময়ে অনেকেই দেখছিল সেদিন –
একা তো দেখেনি আমায় !
লজ্জিত হয়ে খুঁজেছি তোর ঠোঁটের লাল রং
লেগেছে কি সাদা আমার জামায় ?
তারপর নিজেই নিজেকে দিয়েছি সান্ত্বনা
মুছেছি চোখের জল ঘামে ভেজা রুমালে,
জানিস সোমা – সব সুখ যায় না পাওয়া –
এই একটি নশ্বর জীবনে ।

তোর জীবনে ছিলাম একদিন আমি –
তুই ছিলিস আমার জীবনে সূর্যের আলো,
থাক এখন না হয় ওসব কথা ।
শুভদিনে ওসব চিন্তা না করাই ভালো ।
ঢাউস চাঁদটা যখন মধ্যগগনে,
উলু ধ্বনিতে সব ক্ষত পড়বে চাপা,
সাতটা একত্রিশ মিনিট, গোধূলি লগ্ন, শুভ সময়
রক্তিম হবে তোর সিঁথির রেখা ।
অনেক অনুরোধ আমার রেখেছিস তুই
শেষ রাখিস আমার এটাই শেষ অনুরোধ ।
বিয়ের ফটোগুলো পাঠাস হোয়াটস্ আপে
তাতেই আংশিক হবে শোধবোধ ।
দেখবো রঙিন সাজে কেমন লাগছে তোকে,
জুই ফুলের মালা বেঁধেছিস কি খোঁপায় ?
খুঁজবো লাল টিপ চন্দনের মাঝে ?
কাঁদিস না একদম , ধুয়ে যাবে সব রং
অযাচিত চোখের জলে ।
তারপরেও গঙ্গা বয়ে যাবে তার সর্পিল পথে,
আমফান সরে যাবে আরো দক্ষিণ দিকে ।
শুনেছি তুই আছিস সুখে এখন দুই ছেলের মা
জানিস সোমা সেদিন পড়তে গিয়ে সাদা জামাটা কলারে অস্পষ্ট লেগে আছে আজো –
তোর ঠোঁটের সেই লাল রংটা ।
ফিরে যাই অতীতের পথে –
“চাকরি পেয়ে গেছি বেলাসুন্দরী, যাবো দূরদেশে”
প্রথমে কালো মেঘ তারপর ফোঁটা ফোঁটা
তারপর বাঁধ ভাঙা তোর গাল বেয়ে । লুকিয়েছিলিস ভীত সন্ত্রস্ত মুখটা আমার এই বুকে ।
মনে হয় তখনই লেগেছিল জামার কলারে
তোর ঠোঁটের লাল রং ।
তুই ভালো থাক সোমা, সুখে থাক, সংসার নিয়ে
আমিও খুব সুখে আছি আজ –
তবে শেকলে বাঁধা অন্তরা গ্রামে ।।

Copyright © All Right Reserved By Malay Basu & DjM Originals

Leave a Comment

x